মগনামায় সড়ক ধস: ৬ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিপাকে হাজারো মানুষ


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে এক ভয়াবহ সড়ক ধসের ঘটনায় অন্তত ৬টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৩টার দিকে ইউনিয়নের রঙিনখালের পূর্বকূল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঙিনখালের পূর্বকূল, শুদ্ধখালী পাড়া, কালার পাড়া, এবাদুল্লাহ পাড়া, কইড়া পাড়া ও কাজি মার্কেটসহ অন্তত ৬টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই পূর্বকূল সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এ ছাড়া এই সড়ক ব্যবহার করে উজানটিয়া ইউনিয়নেও যাতায়াত করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সড়কের পাশের এক বাসিন্দার বসতভিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য সড়কের একেবারে নিচের অংশে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে বেইজ ঢালাইয়ের উদ্দেশ্যে মাটি খনন করা হয়। এ কাজে ২০-৩০ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরী পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। তাঁর বাড়ি ও জমিজমার দেখভাল করেন শেকাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় আরিফের ‘কারবারি’ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা কাজ শেষ করার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ করে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ঘটনার খবর পেয়ে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী, প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাসেম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বর্তমানে সড়কটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে লবণচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হাজার হাজার মণ লবণ মাঠে আটকা পড়ে আছে।

স্থানীয় লবণচাষি আব্দু শুক্কুর বলেন, বিক্রির জন্য প্রস্তুত লবণ পরিবহন করতে না পারলে এবং রাতে বৃষ্টি হলে চাষিদের সব লবণ নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। মুদিদোকানি মুফিজুর রহমান জানান, এই সড়কটি এলাকার মানুষের জীবনরেখা। হঠাৎ ধসে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে। চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি সড়কের পাশে এভাবে গভীর খনন করা সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন কাজ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল করিম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, সড়ক ধসের ঘটনায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রবাসী আরিফুলের নিয়োজিত ‘কারবারি’ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি সম্পূর্ণ ও টেকসইভাবে সংস্কার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, এই সড়ক ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।