
‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের হাটহাজারীতেও তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান এবং প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও সদস্যসচিব অহিদুল আলম।
এর আগে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেলা উদ্বোধনের কার্যক্রম মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভূমি বিষয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, হাটহাজারীতে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ৮০০ নামজারির আবেদন জমা পড়ে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এসব আবেদন ২৮ দিনে নিষ্পত্তি করার নিয়ম রয়েছে। তবে হাটহাজারীতে গড়ে মাত্র ১৮ দিনেই এগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ আবেদন যাচাই-বাছাই করে এত কম সময়ে নিষ্পত্তি করা বেশ দুরূহ কাজ। নানামুখী সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং মোট আবেদনের প্রায় ২৫ ভাগের বেশি ভূমির নামজারি সম্পন্ন করে দিচ্ছে।
তিনি ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভূমি বিষয়ে নানামুখী জটিলতার কারণে আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে মামলা থাকলে জমির নামজারি করা যায় না। কিন্তু এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারির জন্য আবেদন করেন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসব আবেদনের নামজারি খতিয়ান সৃজন করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, সরকার ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞের মধ্যে ভূমিসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দেশের মানুষের জন্য সীমাহীন উপকার বয়ে আনবে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, হাটহাজারীর ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ৯০ ভাগ উন্নয়ন কর আদায় করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধান অতিথি জানান, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপির নির্দেশনায় মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ভূমি অফিসে গণশুনানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ভূমির জটিলতা নিরসনে দেওয়াননগর মৌজায় জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়ন ও মৌজায় এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রত্যেক ইউনিয়নে আধুনিক ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
