
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভূমি বিভাগের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার।
এর আগে মেলা উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ভূমি অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেবের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আমিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আরিফ উদ্দিন, চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম মাসুম সিদ্দিকী, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ভূমি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় আগত সেবাগ্রহীতাদের ভূমিসেবা বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা দেন চিরিঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ইদ্রিস আজাদ, হারবাং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনসুর, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রিদুয়ানুল ইসলাম এবং কাকারা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখতার।
ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সরকারি পদক্ষেপ তুলে ধরে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব বলেন, মেলায় ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন সেবা ও ভূমিবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হবে। তিন দিনের মেলায় যেসব সেবাপ্রার্থী নামজারির আবেদন করবেন, তাঁদের কাগজপত্র সঠিক থাকলে মেলা শেষ হওয়ার আগেই খতিয়ান হস্তান্তর করা হবে। একইভাবে যেকোনো সময় কাগজপত্র সঠিক থাকলে দুই দিনের মধ্যে সৃজিত খতিয়ান হাতে পাবেন জমির মালিকরা। এতে কাউকে কোনো ধরনের দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না।
তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দরজা সেবাগ্রহীতাদের জন্য সব সময় খোলা। আমি চাই, সেবাপ্রার্থীরা সরাসরি এসে নিজের কাজ নিজে করুন, তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে গিয়ে প্রতারিত না হোন। দালালমুক্ত ভূমিসেবা প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর। অবশ্য দালালদের ব্যাপারে সেবাগ্রহীতাদেরও সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হয়রানিমুক্ত ও সুন্দর ভূমিসেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরকারি সেই নির্দেশনা মেনে সেবা নিশ্চিতে সচেষ্ট আছি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি কমাতে এবং জনগণকে দ্রুত সেবা দিতে এ ধরনের মেলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
মেলায় আসা কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা জুলফিকার আলি বলেন, একসঙ্গে এক টেবিলে ভূমিসেবা পেয়ে ভালো লাগছে। অথচ দুই বছর আগে একবার ভূমি অফিসে এসে একটি কাজের জন্য টেবিলে টেবিলে ঘুরেছি। কিন্তু ভূমিসেবা মেলায় এসে দেখলাম, আগের সব অসঙ্গতি দূর হয়েছে। অনলাইনে নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ায় ভূমি অফিসে ভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
