- পুরনো ছবি
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও চান্দগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের চেনা পারাপার কালুরঘাট ফেরিঘাট। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের মানুষকে সংযুক্ত রাখা এই ঘাটটি এখন আদালতে বিতর্কের কেন্দ্রে। ফেরিঘাটের তিন বছর মেয়াদী ইজারার টেন্ডার কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হাইকোর্টে। আর সেই প্রশ্নের জবাবে আদালত টেন্ডার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
যেভাবে আদালতে গেল বিষয়টি
গত ৩০ এপ্রিল দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় কালুরঘাট ফেরিঘাটের তিন বছর মেয়াদী ইজারার জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম কার্যালয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী জান্নাতুল নাঈম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মহিনুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। রিট পিটিশন নম্বর ৫৯৭৭/২০২৬ দায়ের করা হয় হাইকোর্টে।
গত ১১ মে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রুল নিশি জারি করেন এবং টেন্ডার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুল হক ও মোস্তফা কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির ও মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ছিলেন মাহবুবা তাসলিম আঁখি, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম ও রোহানী সিদ্দিকা।
আবেদন জমা পড়ল সওজে
আদালতের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২০ মে) সওজ বিভাগের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
মেসার্স আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষে প্রতিনিধি ও ম্যানেজার মো. আরিফ উল ইসলাম এই আবেদনটি দাখিল করেন। তিনি জানান, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর তাঁর আবেদনটি গ্রহণ করেছে।
হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশ এবং আবেদনের বিষয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
আদালতের স্থগিতাদেশ এখন আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল। এর মধ্যে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলে কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকবে। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের মানুষের এই পারাপারের ব্যবস্থাপনা কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

