
২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল আট লাখ। এরপর থেকে প্রতিবছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশু।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির অব্যাহত নির্যাতনের কারণে এখনো দেশ ছাড়ছেন রোহিঙ্গারা। তারা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ ৫০ হাজার।
রোহিঙ্গার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও তাদের জন্য মানবিক সহায়তার বাজেট ক্রমেই কমে আসছে। চলতি বছরের (২০২৬) যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৭১ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।
জেআরপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ লাখ ৯০ হাজার মানুষ মানবিক চাহিদার মধ্যে রয়েছেন। তবে এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকছেন প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
২০২৫ সালে জেআরপি বাজেট ধরা হয়েছিল ৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ওই বছর ১৬ লাখ ৫০ হাজার চাহিদাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ১৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই বাজেটের আওতায় এসেছিলেন।
২০২৬ সালে ১৫ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের এই তহবিলের সুবিধাভোগী হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজেট কমেছে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি ডলার বা ২৬ শতাংশ। এবারের জেআরপিতে ১২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা এবং তিন লাখ সাত হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘের দপ্তরে আয়োজিত এক সভায় ২০২৬ সালের জেআরপি তহবিলের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ৭১ কোটি ডলারের মধ্যে ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন কোটি ৬২ লাখ ডলার ব্যয় হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
এতে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক উপহাইকমিশনার কেলি ক্লিমেন্টস, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহকারী নির্বাহী পরিচালক রানিয়া দাগাশ কামারা এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী কেরোল ফ্লোরে।
অনুষ্ঠানে জেআরপি-২০২৬ উপস্থাপন করেন কক্সবাজারে শরণার্থী প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন। তিনি জানান, চলতি বছরের জেআরপিতে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার খাদ্য নিরাপত্তায় বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন জানান, চলতি বছরের মোট চাহিদার মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৬৩ শতাংশ তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
