জাল মৃত্যুসনদ তৈরি করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা: চট্টগ্রামে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


মূল মালিকের জাল মৃত্যুসনদ তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রামের আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিমের আদালতে এই ফৌজদারি অভিযোগটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী কানিজ ফাতেমা (কলি) হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা এলাকার কামাল ভিলার বাসিন্দা। এই মামলার আসামিরা হলেন—নুরুল আলম প্রকাশ বাহাদুর, মো. নূর হোসেন, নূর আমিন, নূর আজিম, নূরুল আবছার, মোছা. আয়েশা খাতুন এবং সালাহ উদ্দীন মানিক।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, নালিশি সম্পত্তির মূল মালিক রমণী নয়নতারা ১৯৬৭ সালে তাহেরুল আনোয়ারের কাছে বৈধভাবে জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ওই জমি কিনে দীর্ঘ সময় ধরে ভোগদখলে আছেন বাদী কানিজ ফাতেমা ও তার পরিবার।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অত্যন্ত চতুর ও জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা ১৯৮৩ সালের কয়েকটি ভুয়া দলিল তৈরি করে। কিন্তু বাদীর ১৯৬৭ সালের দলিলের কাছে আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে তারা এক অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেয়।

আসামি সালাহ উদ্দীন মানিকের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তারা হাটহাজারী পৌরসভা থেকে একটি জাল মৃত্যুসনদ ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে। সেখানে মূল মালিক নয়নতারার মৃত্যু দেখানো হয় ১৯৬৩ সালের ৭ জানুয়ারি। মূলত ১৯৬৭ সালের মূল দলিলটি ভুয়া প্রমাণ করতেই এই জালিয়াতি করা হয়। অথচ নয়নতারা ১৯৬৭ সালে সশরীরে উপস্থিত থেকে দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন।

গত ১০ এপ্রিল সকালে আসামিরা ওই জাল কাগজপত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে বাদীকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। সর্বশেষ গত ১৫ মে সকালে বাদী ও সাক্ষীরা আসামিদের কাছে এই জালিয়াতির বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

দণ্ডবিধি আইনের ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় জালিয়াতি, প্রতারণা এবং হুমকির এই অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে।