
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবৈধ মাটিকাটা, মাদক, কিশোর গ্যাং ও গরু চুরি দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
একই সঙ্গে আসন্ন কোরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি ঠেকাতে ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে পটিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় এমপি এনামুল হক এনাম বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোরবানির হাটে যেন যানজট বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পুলিশের প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি পরিচয়ে কেউ থানায় বসে থাকলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও গতিশীল হতে হবে এবং মাদক নির্মূলে তাদের কার্যকর ভূমিকা দেখতে হবে।
পটিয়ার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এমপি এনাম। তিনি অপরাধ দমনে সবাইকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে বলেন।
সভায় পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, মাদক কারবারি, অবৈধ মাটিকাটা, গরুচোর ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, অবৈধ মাটিকাটা ও সরকারি সম্পদ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। চলাচলের রাস্তায় কেউ পশুর হাট বসাতে পারবে না।
কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ইউএনও আরও বলেন, কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি, যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতা থাকবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক মোরশেদ শফি হিরু এবং মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ, উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া, পটিয়া রেঞ্জের ফরেস্টার রহমত আলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সৌম্য চৌধুরী ও হিন্দু ধর্মীয় নেতা পুলক কান্তি চৌধুরী।
জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ছনহরা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতী, কোলাগাঁও ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আকবর, জঙ্গলখাইন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান গাজী বখতিয়ার উদ্দিন বকুল, কুসুমপুরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আকবর, ভাটিখাইন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তালেব, হাবিলাসদ্বীপ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন এবং শোভনদণ্ডী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন, মহিলা দল নেত্রী হালিমা বেগম, মাজেদা বেগম এবং সাংবাদিক নুর হোসেন, কাউছার আলম, রবিউল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
