
চট্টগ্রাম নগরে এবার এক দিনে তিন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার নগরের ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডবলমুরিং থানা এলাকার ঘটনায় পুলিশ জানায়, ৭ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে ডেকে একটি খালি প্লটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত মো. এহসানকে (৫৫) ধরে পিটুনি দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ আসামিকে আটক করতে গেলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ বুঝিয়ে আসামি মো. এহসানকে থানায় নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া মো. এহসান একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।
এদিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী মো. হাসান (৪২) এই ঘটনা ঘটান।
ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় প্রতিবেশী মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।
আসামি মনির হোসেনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তারা আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে মনির হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাকলিয়া থানা ঘেরাও করতে যাওয়ার পথে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের তুলাতলী এলাকায় মধ্যরাতেও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে আসামি মনির হোসেন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
