সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ২৬ ব্লকের দরপত্র আহ্বান, বিদেশি কোম্পানিকে নতুন সুবিধা


সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করছে বর্তমান সরকার। এর আগের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ না নেওয়ায় এবার নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তিতে (পিএসসি) বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে নানা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম বাড়ানোসহ অন্যান্য সুবিধার কারণে এবার দরপত্রে অংশ নিতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়বে। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব জানান, আগের দরপত্রে সাতটি বিদেশি কোম্পানি নথি কিনলেও কেউ তা জমা দেয়নি। মো. শোয়েব আরও জানান, বিদেশি কোম্পানিগুলোর জমা না দেওয়ার কারণ ও মতামত জেনেই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।

আগামী ১ জুন থেকে দরপত্রের প্রয়োজনীয় নথি কিনতে পারবেন আগ্রহীরা। একই সঙ্গে সমুদ্রে পরিচালিত জরিপের তথ্যও কেনা যাবে। দরপত্র কেনা ও জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। মো. শোয়েব জানান, এবার ৫৫টি কোম্পানিকে সরাসরি ইমেইল করে পেট্রোবাংলা আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সন মবিল এই দরপত্রের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা এই ইস্যুতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ১ জুন দরপত্র উন্মুক্ত হলে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডের কোম্পানিও আগ্রহী হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম জানান, গ্যাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় খবর। তবে বদরুল ইমাম মনে করেন, দীর্ঘ সময় পর সাগরে অনুসন্ধান শুরু করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বড় কোনো গ্যাসের ক্ষেত্র পাওয়া গেলে সেটি দেশের জন্য অভাবনীয় সুখবর হবে বলে বদরুল ইমাম মন্তব্য করেন।

পিএসসি-২০২৬ চুক্তিতে গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) দামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে এটি ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা বা বাড়ার সঙ্গে আনুপাতিক হারে গ্যাসের দামও ওঠানামা করবে।

নতুন চুক্তির আওতায় ঠিকাদার কোম্পানি সমুদ্র থেকে গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন নির্মাণ করবে এবং এর জন্য তারা নির্দিষ্ট ট্যারিফ পাবে। এছাড়া, শ্রমিক তহবিলে কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে, যা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম উভয়েই আশা করছেন, নতুন সুবিধার কারণে এবার সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন।