
আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়ায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। শেষ সময়ের হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় একসঙ্গে ১২টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও চকরিয়া পৌরসভা বাস টার্মিনাল বাজারের হাটে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। এসব বাজারে প্রচুর দেশীয় গরু বেচাকেনা হচ্ছে।
ইলিশিয়া কোরবানি পশুর হাটের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রশাসনের অনুমোদিত সময় অনুযায়ী রোববার ও বুধবার ইলিশিয়ায় হাট বসে। রোববার সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে বিক্রেতারা গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। দুপুরের পর থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়।
রাত ১০টার পরও বাজারে বেচাকেনা চলবে জানিয়ে গিয়াস উদ্দিন আরও জানান, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের একটি দল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সপ্তাহ আগে থেকেই হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদাই এবার সবচেয়ে বেশি।
ইলিশিয়ার পাশাপাশি চকরিয়া পৌরসভার ঘনশ্যাম বাজার, মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠ, বরইতলী, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, ফাঁসিয়াখালী ও মাতামুহুরী এলাকার হাটগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে নিজেদের পছন্দের পশু কিনছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, মাঝারি গরু ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং বড় গরু দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ছাগল ও মহিষের বাজারও বেশ জমজমাট। ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশীয় গরুর প্রতি তাদের আগ্রহ রয়েছে।
বেতুয়াবাজার এলাকার খামারি আবুল কালাম জানান, সারা বছর বিপুল অর্থ লগ্নি করে কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেছেন। শেষ সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে এবং ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশুর হাটগুলো তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ দল কাজ করে যাচ্ছে। চুরি, ছিনতাই ও জাল টাকার ব্যবহার রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জাল টাকার বিষয়ে তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার জন্য ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও মাঠে কাজ করছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি কাজ করছে।
