
বাঁশখালী প্রধান সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, পরিবহন নৈরাজ্য ও তীব্র যানজটের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তৈলারদ্বীপ সেতুতে মোবাইল কোর্ট বসানোর দাবি জানানো হয়েছে এই মানববন্ধনে।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী রুটে চলাচলকারী যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে তীব্র যানজট এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধের দাবিতে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সামনে উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী, সচেতন ছাত্রসমাজ এবং এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাওয়াদুল করিম বলেন, ঈদ এলেই বাঁশখালী রুটের পরিবহন সেক্টরে এক চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়। অসাধু সিন্ডিকেট সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।
জাওয়াদুল করিম আরও বলেন, চাঁনপুর, গুনাগরি, মিয়ারবাজার এবং চাম্বল বাজারে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকে। ট্রাফিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঈদে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নামিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে জাওয়াদুল করিম হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাঁশখালী শাখার সভাপতি এইচ এম আব্বাস খাঁন বলেন, তিনি গত রোববার চট্টগ্রাম শহর থেকে আসার সময় কিছুক্ষণ মইজ্জারটেক এলাকায় অবস্থান করেন। এইচ এম আব্বাস খাঁন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কর্তৃক মইজ্জারটেক ও শহরকেন্দ্রিক সিএনজিগুলো থেকে মাসিক টোকেন বাণিজ্য করে যাত্রী নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাঁশখালী থেকে যে সমস্ত সিএনজি মইজ্জারটেকে যায়, তাদের আটক করে মামলা দেওয়া হয়।
এইচ এম আব্বাস খাঁন আরও বলেন, বাঁশখালীর গাড়িগুলোকে মইজ্জারটেক আসতে না দিলে বাঁশখালীর মানুষ কীভাবে যাতায়াত করবে? বাঁশখালীর মানুষ শহরে গেলে মইজ্জারটেক ও শহরকেন্দ্রিক গাড়িগুলো কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে। মইজ্জারটেকে বাঁশখালীর সিএনজি চালকরা হয়রানির শিকার হওয়ার কারণে গাড়ি না থাকায় যাত্রীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনকে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে বলে এইচ এম আব্বাস খাঁন দাবি জানান।
মানববন্ধনে জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী মাশফিকুর রহমান বলেন, ভাড়ার নামে এই প্রকাশ্য ডাকাতি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের এই নীরব শাস্তি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে বলে মাশফিকুর রহমান মন্তব্য করেন।
এনসিপির বাঁশখালী শাখার প্রধান সমন্বয়ক সাকিবুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার বাসিন্দারা যখন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দের সাথে পালন করেন, তখন বাঁশখালীর মানুষ বাড়ি আসেন বুকভরা বেদনা নিয়ে। এর একমাত্র কারণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি।
সাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বাঁশখালীবাসীর জন্য মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাঁশখালীতে নেতৃত্বের পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু প্রতিকার মিলছে না বলে সাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা এনসিপির সংগঠক মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম, বাঁশখালী উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল আলীম এবং উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। তারা এই মানববন্ধনে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির বাঁশখালী উপজেলার প্রতিনিধি দল বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে প্রতিটি স্টেশনে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন, তৈলারদ্বীপ সেতুতে সার্বক্ষণিক স্পেশাল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গুনাগরি-মিয়ারবাজার-চাম্বল বাজারে নির্দিষ্ট ‘পিক-অ্যান্ড-ড্রপ জোন’ নির্ধারণ, বিশেষ ট্রাফিক স্কোয়াড গঠন এবং বেপরোয়া ওভারটেকিং ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হক স্মারকলিপিটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। ঈদের এই সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন রহুল আমিন এবং রবিউল হক।
