চকরিয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা: দুই দিন পর ছোট ছেলের বিরুদ্ধে বড় ছেলের মামলা


কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে জুমার নামাজ পড়ে ঘরে ফেরা বৃদ্ধ বাবা ইব্রাহিম খলিলকে (৭০) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই দিন পর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

নিহত ইব্রাহিম খলিলের বড় ছেলে মো. ছাদেক মিয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে চকরিয়া থানায় ঘাতক ছোট ভাই মো. মিনারকে (২৭) একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার সহায়তায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. মিনারকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে মো. মিনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. মিনারকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত ইব্রাহিম খলিলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘটনার মূল রহস্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্য জানতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী মৌলভীরকুম বাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলের ছোট ছেলে মো. মিনার দীর্ঘদিন ধরেই উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির ছিল। মো. মিনার প্রায়শই পারিবারিক নিয়মকানুন অমান্য করে পিতা ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করত এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিত।

গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় মসজিদ থেকে জুমার নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরেন। ইব্রাহিম খলিল রুমে বসে দুপুরের খাবারের জন্য অপেক্ষা করার সময় ছেলে মো. মিনার পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা হাতে পিতার রুমে প্রবেশ করে।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মো. মিনার তার বৃদ্ধ পিতা ইব্রাহিম খলিলকে মাথায়, মুখে, গলায়, পেটে ও হাতসহ সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো দায়ের উপর্যুপরি আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণে ইব্রাহিম খলিলের বাম হাতটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন।

এলাকাবাসী জানান, ইব্রাহিম খলিলের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতক মো. মিনার লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত দেহটি টেনেহিঁচড়ে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের গর্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মুর্শিদা বেগম ও কন্যা সেলিনা বেগম দৌড়ে রুমে এসে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করেন।

পরে মো. মিনার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মুর্শিদা বেগম ও সেলিনা বেগমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ঘাতক মো. মিনারকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিম খলিলকে উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিলকে মৃত ঘোষণা করেন।