
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নগরের হালিশহরে একটি ভবনে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দুই শিশু ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। বাবা-মাসহ পরিবারের সাত সদস্যকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের চিকিৎসা, পড়াশোনা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার যাবতীয় খরচ এখন থেকে সাঈদ আল নোমান বহন করবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারকে দেখতে যান সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। সেখানে সাঈদ আল নোমান ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। পরে সাঈদ আল নোমান শিশু দুটির দাদীর হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন এবং ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের আজীবনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের পুরো পরিবার ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। একই পরিবারের সাতজন নিহতের ঘটনায় ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার চিরতরে তাদের বাবা-মাকে হারায়। বর্তমানে বৃদ্ধা দাদী ছাড়া ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারকে আগলে রাখার মতো আর কেউ বেঁচে নেই। বর্তমানে ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাঈদ আল নোমান জানান, মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার যেন বাড়িতে বসে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য একজন গৃহশিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন সাঈদ আল নোমান। ওই শিক্ষকের বেতন, ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের বই-খাতা, কলম ও স্কুল ড্রেসসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও খরচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাঈদ আল নোমান নিজেই প্রদান করবেন।
এ ছাড়া, আগুনে চামড়া দগ্ধ হওয়ার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এই বিবেচনা থেকে ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের থাকার ঘরে নিজস্ব অর্থায়নে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন এবং প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার দায়িত্বও নিয়েছেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
সাঈদ আল নোমান আরও জানান, ঢাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার এখন কুমিল্লায় থাকলেও পরবর্তীতে উন্নত ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য যদি ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আসতে হয়, তবে সেখানেও ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের বিশেষ চিকিৎসার সব ধরনের তদারকি ও দেখভাল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে করা হবে।
সাঈদ আল নোমান বলেন, ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে এই এতিম সন্তানদের পাশে দাঁড়ানো সাঈদ আল নোমান নিজের দায়িত্ব মনে করেছেন। যতদিন ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তার নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে না পারছে, ততদিন ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও সুন্দর জীবনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই সাঈদ আল নোমান করে যাবেন।
এদিকে অভিভাবকহীন ও সহায়-সম্বলহীন ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের চরম সংকটে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন। ঢাকায় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের বাবা সামির আহমেদ, মা পাখি আক্তার, চাচা মো. শিপন, চাচা সাখাওয়াত হোসেন, চাচী নুর জাহান আক্তার রাণী, এক চাচাতো ভাই সাফায়াত ও চাচাতো বোন উম্মে আইমান সিগ্ধা মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামির আহমেদ, পাখি আক্তার, মো. শিপন, সাখাওয়াত হোসেন, নুর জাহান আক্তার রাণী, সাফায়াত ও উম্মে আইমান সিগ্ধার মৃত্যুর খবরও জানা ছিল না ছোট্ট ফারহান আহমেদ আনাস ও আয়েশা আক্তারের।
