ঐক্য ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে: সাঈদ আল নোমান


ঈদুল আজহায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, জনআস্থা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, যতো বেশি জনগণের আস্থা ধরে রাখা যাবে, ততো বেশি দেশকে স্থিতিশীল রাখা যাবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা। আর সেই কাজ হবে ভালো কাজ করার মাধ্যমে ঐক্য ধরে রেখে ও ঐক্য বাড়িয়ে।

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের সাংগঠনিক অংশসহ ১০টি ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণকালে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এসব কথা বলেন।

উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাঈদ আল নোমান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, জনগণ যদি মনে করেন তাদের দিয়ে কাজ হচ্ছে না, তাহলে দল হিসেবে অনেক বিপাকে পড়তে হবে। কেননা জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীর শক্তি নিয়েই সরকার গঠিত হয়। সেই শক্তিকে আরও বাড়াতে হলে নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এ সময় এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো অপকর্ম তো দূরে থাক, সবাইকে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এলাকাকে গুছিয়ে রাখতে হবে।

জনকল্যাণমুখী কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, ভালো কাজের মাধ্যমে শুদ্ধতার রাজনীতি করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুধাবন করবেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে ভালো কাজের ও মানবিক রাজনীতি হচ্ছে।

প্রয়াত পিতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের কথা স্মরণ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, তিনি তার বাবার চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করেন। আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুভূতিগুলো তার মধ্যে কাজ করে।

সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান শিখিয়েছেন, অভিভাবক কখনও বিমাতাসুলভ আচরণ করতে পারে না। করলে তিনি আর অভিভাবক থাকেন না। সাঈদ আল নোমানের চোখে সবাই সমান এবং সবাই দলের নেতাকর্মী। তিনি এমনভাবে কাজ করেন যেন কেউ একজনও বলতে না পারে এমপি সাহেব বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন বা অন্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই চিন্তা মাথায় রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে।

এ সময় সাঈদ আল নোমান নেতাকর্মীদের স্বচ্ছতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুন্দর ও মানবিক রাজনীতি চট্টগ্রাম-১০ আসনে করে দেখাতে চান। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় তার এমপি হয়ে বা অন্যদের দলের কর্মী হয়ে কোনো লাভ নেই, যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা না যায়। তাই দলকে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবারও চাঙ্গা করে তুলতে হবে।

নেতাকর্মীদের কাছে নিজের সময়ের জবাবদিহি করে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সংসদ অধিবেশন, চায়না সফর, ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতসহ নানা ব্যস্ততায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যতোবার দেখা হওয়ার কথা ছিল, সেটি হয়নি। তবে এই ঈদের পর থেকে তিনি সেটি করবেন।

দলকে মজবুত ও শক্তিশালী করতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে যারা এজেন্ট ছিল, তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসবেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলেও জানান সাঈদ আল নোমান।

এ সময় সাঈদ আল নোমান আসন্ন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ ফিলোসপির জনক মেজর জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী অনুষ্ঠানসহ ২৯ মে থেকে টানা কয়েকদিনের কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ সবুর এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম রাসেল প্রমুখ।

এছাড়া চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সাঈদ আল নোমান নগরীর ১০টি ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দেন।