পটিয়ায় কোরবানির মাংস ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে আহত ৩


চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির মাংস ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় দুই সহোদরসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বজল সুকানির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ওই বাড়ির মাহবুবুর রহমানের ছেলে সাইফুর রহমান (৩৫) ও সাইদুর রহমান (৩০) এবং তার মেয়ের স্বামী মাহবুবুল আলম (৪৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাহবুবুর রহমানের পরিবার থেকে প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীরের ঘরে কোরবানির মাংস পাঠানো হয়। কিন্তু তারা সেই মাংস না রেখে ফেরত দেন। রোববার সকালে জাহাঙ্গীরের পরিবারের কাছে মাহবুবুর রহমানের ছেলেরা এর কারণ জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। খবর পেয়ে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।

মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, মাংস না নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের ভাই মো. আরিফের স্ত্রী প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই জাহাঙ্গীরের ভাড়াটিয়া মামুন, মুকিল, সিরাজ ও নজরুলসহ কয়েকজন বহিরাগত অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সাইফুর ও সাইদুরকে ছুরিকাঘাত করে এবং মাহবুবুল আলমকে বেধড়ক মারধর করে।

পরে আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পটিয়া থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সাইফুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা জাহান তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।