
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত যুবককে পার্শ্ববর্তী মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে, একই দিন সকাল ১০টায় মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে এই সড়কের আমতল এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত হন। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম রবিউল হোসেন সিকদার (২৪)। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের গোপাল ঘাটা গ্রামের বাদশা আলী সিকদার বাড়ির মো. আনোয়ার পাশার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত সাজ্জাত হোসেনও (২৩) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহতের প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭টি মোটরসাইকেলে করে ১৫ বন্ধু মিলে পার্শ্ববর্তী পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিকেলে তারা ফটিকছড়ির পাইন্দং নয়াবাজার এলাকার এমবি ইটভাটা সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহী দুই বন্ধু সড়ক থেকে ছিটকে পড়েন।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউলকে মৃত ঘোষণা করেন।
“গুরুতর আহত অবস্থায় রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে আমরা মৃত ঘোষণা করি। আহত অপর যুবককে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”— মো. মহিউদ্দিন, দায়িত্বরত চিকিৎসক, মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ফটিকছড়িবাসী চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের কারণেই প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরমান বলেন, আর কত প্রাণ झরলে নিরাপদ হবে ফটিকছড়ির সড়ক? কবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে? তিনি এই আঞ্চলিক মহাসড়কে কঠোর নজরদারি ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই নাজিরহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং লাশ উদ্ধারসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন জানান, সকালে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখছে। নিহতের লাশ উদ্ধার ও আহতের চিকিৎসাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
