মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়: এমপি এনাম


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজও দেশপ্রেমিক জনগণকে অনুপ্রাণিত করে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক।

তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে না। কারণ স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম সাদেকের সভাপতিত্বে এবং মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারীক এবং পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।

এছাড়া আরও বক্তব্য দেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সওদাগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ।

সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটিয়ায় অবস্থান করেছিলেন। তাঁর যেসব স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, অধিকার ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।