
ঈদের ছুটি শেষ হলেও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খৈয়াছরা ঝরনায় পর্যটকদের ভিড় কমেনি।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ।
আকার ও গঠনশৈলীর দিক দিয়ে বেশ বড় এই ঝরনার মোট ৮টি মূল ধাপ এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ রয়েছে, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো ঝরনায় সচরাচর দেখা যায় না।
উপর থেকে পানি পড়ার কলকল শব্দ পর্যটকদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে নাগরিক জীবনের অবসাদ দূর করছেন দর্শনার্থীরা।
চার বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে আসা ফখরুল ইসলাম জানান, ঝরনায় পানি খুব বেশি না থাকলেও তারা অনেক আনন্দ করেছেন। তবে টিকিটের দাম আগের ২০ টাকার পরিবর্তে এখন ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফেনীর পরশুরাম থেকে আসা কলেজছাত্র মাসুদ রানা জানান, প্রথমবার খৈয়াছরা ঝরনায় এসে তার খুব ভালো লেগেছে। তবে যাওয়ার পাহাড়ি পথটি কিছুটা কষ্টের বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মুরশিদুল আলম জানান, বর্ষা মৌসুমের তুলনায় পানি এখন বেশ কম। উঁচু-নিচু পথ হওয়ায় বাচ্চাদের আসা-যাওয়ায় একটু কষ্ট হয়েছে।
খৈয়াছরা ঝরনা সড়কের পাশের দোকানি আবু তাহের জানান, রোজার ঈদের পর প্রায় দুই মাস দর্শনার্থী তেমন ছিল না। তবে কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে পর্যটক বাড়ায় তাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের ৫টি ঝরনার ইজারা পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন খরা থাকার পর কোরবানির ঈদের পর থেকে মোটামুটি পর্যটক আসতে শুরু করেছেন।
গিয়াস উদ্দিন আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। টিকিট কাউন্টার থেকে সতর্ক করার পাশাপাশি সবাইকে গাইড নিয়ে ঝরনায় যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
কীভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে মিরসরাই পৌরসদর পার হতে হবে। এরপর বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামতে হবে।
সেখান থেকে খৈয়াছরা ঝরনা রাস্তার মাথায় থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লোকাল বা রিজার্ভে যাওয়া যায়। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়েও পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
