আদালতের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেন বাগান বাজার ইউপি চেয়ারম্যান সাজু


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ী উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন সাজু উচ্চ আদালতের আদেশের পর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

বুধবার তিনি আদালতের আদেশের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কাছে জমা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাজু কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান সাজু বলেন, তিনি অপসারিত হননি এবং উচ্চ আদালতের আদেশের ভিত্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় দায়িত্বে ফিরেছেন।

“সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিষদে দাপ্তরিক কাজ করেছি। মানুষের সেবা করাই আমার লক্ষ্য,” বলেন তিনি।

তবে তার দায়িত্বে ফেরা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাকে সহায়তা বা ‘শেল্টার’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফটিকছড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে।

“আমরা শুনেছি এ ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলেও কথা উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

জহির আজমের ভাষ্য, বাগান বাজার এলাকায় দীর্ঘ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধার মুখে ছিলেন। সে প্রেক্ষাপটে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ফটিকছড়ী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের আদেশের পর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা ছয় মাসের জন্য স্থগিত হওয়ায় সাজু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ফিরেছেন।

ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেই কারণে চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন সাজু স্বপদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফটিকছড়ীর ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি পৌরসভার একাধিক চেয়ারম্যান ও মেয়র এলাকায় অনুপস্থিত হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আদেশের ভিত্তিতে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে ফিরে এসেছেন।