
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু নোটিশটি পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি চকরিয়া থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির পরিচয়, ছবি বা পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য প্রকাশ দেশের প্রচলিত আইন, মানবাধিকার নীতি এবং ভুক্তভোগী সুরক্ষা নির্দেশিকার পরিপন্থি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতেরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
অভিযোগ সত্য হলে তা উচ্চ আদালতের নির্দেশনার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীর মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
নোটিশে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগীর ছবি ও পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য অপসারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ লিখিতভাবে জানানো।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
