
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে যমজ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার পেছনে ধারদেনা করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেও সন্তানদের বাঁচাতে পারেননি বাবা।
মারা যাওয়া ওই দুই শিশু হলো আবদুল্লাহ আল নোমান ও আবদুল্লাহ আল ফাহিম। তারা মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার হারুনুর রশিদ ও ইসরাত জাহান দম্পতির সন্তান।
গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে নোমানের মৃত্যু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায় ফাহিম।
বুধবার রাত ১১টায় জানাজা শেষে ফাহিমকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বাবা হারুনুর রশিদ জানান, গত ৮ মার্চ ফাহিমের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৮ মার্চ তার হাম শনাক্ত হয়।
এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে নোমানেরও হামের উপসর্গ দেখা দেয় এবং তাকেও একই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ মে নোমান মারা যায়।
নোমানের মৃত্যুর পর ফাহিমের অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে প্রথমে ঢাকায় ও এরপর নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পেশায় মুদি দোকানি হারুনুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, সন্তানদের বাঁচাতে তিনি হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা ঋণ করেছেন। টাকা খরচ হলেও সন্তানদের ফিরে পেলে তার কোনো আক্ষেপ থাকত না বলে জানান তিনি।
প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন জানান, শিশু দুটি খুবই হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিল। একই পরিবারের দুই শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেই কেবল তাদের কাছে রোগীর তথ্য থাকে।
