
বর্তমান বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করলেও কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা, দলীয় প্রভাব এবং ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে অন্তরায় হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন এবং রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মব সংস্কৃতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও এখনো হাটবাজার ও পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একজন মন্ত্রীর চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গঠনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার সংরক্ষণের কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
টিআইবি আরও জানায়, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা দেখা যাচ্ছে। পুলিশ, প্রশাসন, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়ন অব্যাহত রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার শাহ আলীর মাজার এবং কুষ্টিয়ায় এক পীরের ওপর হামলার ঘটনাকে দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে টিআইবি। তবে মানবাধিকার রক্ষা, দুর্নীতি দমন ও গুম প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো স্থগিত বা বাতিল করাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
টিআইবি মনে করে, যেসব আইন নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব বাড়ায়, সরকার সেসব আইন পাস করেছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিন একদিকে আশাজাগানিয়া হলেও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ঘাটতি চরম উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এবং গবেষণা সহযোগী মো. সহিদুল ইসলাম।
