
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বালুবাহী একটি পিকআপের সঙ্গে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে সংঘর্ষে পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রেনের একটি বগি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় দরবারটিলা এলাকায় একটি অবৈধ রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডিইন আবু রাফি মো. ইমতিয়াজ হোসেন এবং ডিএমই রেজোয়ানুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, বালুভর্তি একটি পিকআপ অবৈধ রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থলে চলে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পিকআপের চালক ও হেলপার দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে দ্রুতগতির ট্রেনটি পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
ট্রেনের যাত্রী ইকবাল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি জোরারগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু দূর এগিয়ে ট্রেনটি থামলে অনেক যাত্রী নিচে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে ট্রেনের কোনো যাত্রী আহত হননি।
চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম জানান, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পিকআপটি ট্রেনের সঙ্গে আটকে থাকায় সেটি সরাতে কিছুটা সময় লাগে, ফলে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
রেলওয়ের ফেনীর ঊর্ধ্বতন উপসহকারী (কার্য) সুজন ভট্টাচার্য জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত পিকআপটি সরিয়ে ঢাকামুখী লাইন সচল করা হয়। এই ঘটনায় চট্টগ্রামমুখী লাইনের দুটি স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা দ্রুত মেরামত করা হয়েছে এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের চার নম্বর বগির একটি দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধ রেলক্রসিংটি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে থাকা অবৈধ রেলক্রসিং ব্যবহার করে প্রতিদিন কাঠ ও বালুবাহী যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ন্ত্রিত পারাপার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব পথ বালু ও গাছবোঝাই ট্রাক পারাপারে নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদল নেতা।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনা আবারও অবৈধ রেলক্রসিংগুলোর ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
