চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থায় মহাপরিকল্পনা, চলবে মেট্রোরেল ও মনোরেল


চট্টগ্রাম নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি সমন্বিত ‘মহাপরিকল্পনা’ বা মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এদিন ডিটিসিএর একটি প্রতিনিধিদল নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার ও অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে।

মশিউর রহমান জানান, ট্রাফিক পরিস্থিতি ও যাত্রীদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে। ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যাত্রীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। চাহিদা বেশি থাকলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কম হলে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকমের চিত্র দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া একটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতেই ডিটিসিএর প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছে। যাচাই শেষে তারা তাদের মতামত জানাবে।

ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে দু-একটি রুটে অবশ্যই মনোরেল হবে। তবে কোন রুটে মনোরেল আর কোন রুটে মেট্রোরেল হবে, তা সম্পূর্ণ চাহিদা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে এই বিশ্লেষণ ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান ও এ সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি চট্টগ্রামের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।