
চট্টগ্রামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পরদিনই অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত আলোচনার পর অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সমিতির নেতাদের তা রোগীর স্বজনদের ফেরত দিতে হবে।
চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তারা ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আলোচনার পর ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
তিনি আরও জানান, বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেলে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে কারও নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স থাকলে তাতে রোগী ও মরদেহ পরিবহন করা যাবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ চৌধুরী জানান, সবকিছুর খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি আজ থেকেই কার্যকর হবে এবং আগামী তিন মাস এই ভাড়া বহাল থাকবে। এরপর পরিস্থিতি আবার পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কের অলি খাঁ মসজিদ থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স না রাখার কড়া নির্দেশ দেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার মুখে (পপুলার ডায়াগনস্টিক সংলগ্ন) এবং জাতিসংঘ পার্কের কাছে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের খালি জমিতে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে হবে। রাস্তায় লাইন ধরে কোনো গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। যানজট এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোববার সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সিন্ডিকেটের কারণে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স নিতে রোগীর স্বজনরা বাধ্য হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে রোববার বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে এনসিপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
