
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা বিলুপ্তপ্রায় একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় মো. হাদিস রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই অভিযান চালায়। চকরিয়া উপজেলার ভাঙারমুখ বাজার এলাকা থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিরল বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাচারের জন্য মজুত রাখা এসব প্রাণী উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।
আটক হাদিস রহমান ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে।
চুনতি বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলো পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ জানান, বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বন বিভাগের নজরদারি এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
