
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে মা ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।
সোমবার রাত আটটার দিকে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার (চকরিয়া) পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় প্রবাসী ফুরুক আহমদের বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ফুরুক আহমদ চৌধুরী বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন।
ডাকাতি ও পাশবিক নির্যাতনের এই ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- রেজাউল করিম, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ।
গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে স্কুলছাত্রী মেয়েটি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল জানালার গ্রিল কেটে ওই বাড়িতে ঢোকে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন চালায়। ডাকাতরা আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম ফারুক বলেন, ডাকাত দল তার বোন ও ভাগ্নির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। ভাগ্নির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মাসুদ ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও পুলিশের সহায়তায় এলাকা ঘিরে রেখে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, আটক ছয়জনের মধ্যে চারজনকে ভুক্তভোগী গৃহকর্ত্রী শনাক্ত করেছেন।
চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, খবর পেয়েই তিনি এবং ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
