মাটির নিচে যেন আরেক সিঙ্গাপুর


সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে : আকারে ছোট হলেও সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রার মান বেশ উন্নত। তবে এই শহরের কেবল ওপরে নয়, মাটির নিচেও গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক নগরী।

মাটির নিচের এই অংশে রয়েছে একাধিক রেললাইন, শপিং মল, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান।

সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ মানুষ যাতায়াতের জন্য ট্রেন ব্যবহার করেন। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার মূল মাধ্যম হলো এই ট্রেন ব্যবস্থা।

এসব ট্রেন চলাচল করে মাটির নিচে তৈরি করা রেললাইন দিয়ে। সেখানে অন্তত শতাধিক রেলরুট রয়েছে, যেখানে লিফটে নিচে নেমে ইজি লিংক কার্ড পাঞ্চ করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুর বিশ্বজুড়েই পরিচিত। উঁচু ভবন, আধুনিক শপিং মল আর পরিপাটি চারপাশের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক দেশটিতে ভিড় করেন।

চিড়িয়াখানা, পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শুরু করে রাতের সিঙ্গাপুর সবখানেই থাকে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে শুধু কংক্রিটের শহর নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নতুন উদ্যোগও নিয়েছে দেশটির সরকার।

সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত তেঙ্গাহ এলাকাকে ‘ইকো-স্মার্ট সিটি’ বা ‘অরণ্য নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগে এই এলাকাটি মূলত সামরিক ও শিল্প কারখানা তৈরির জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে পরে সেই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়।

শহরটিকে দূষণমুক্ত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সেখানে প্রচুর গাছ লাগানো হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি রাজন আলী ও রোকনুজ্জামান মীর্জা দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশটিতে অবস্থান করছেন।

নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তারা বলেন, দৈনন্দিন কাজ ও অফিসে যাতায়াতের জন্য তারা ট্রেন ব্যবহার করেন। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই মাটির নিচের এই রেললাইন দিয়ে অনায়াসে চলাফেরা করা যায়।

রাজন আলী ও রোকনুজ্জামান মীর্জা আরও জানান, মাটির নিচের এই ব্যবস্থা এত চমৎকার ও পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ভেতরে থাকলে বোঝার উপায় নেই এটি মাটির নিচে নাকি ওপরে। তাদের মতে, সিঙ্গাপুর শহরের ওপরের অংশের চেয়ে মাটির নিচের অংশ কোনো দিক দিয়েই কম নয়।