
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন ১৬ জন বাংলাদেশি।
মঙ্গলবার সকালে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ব্র্যাকের চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রবাসীদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় তাদের তাৎক্ষণিক খাবার ও বাড়ি ফেরার যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়।
ফেরত আসা প্রবাসীরা জানান, কাতারে কাগজপত্রহীন প্রবাসীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অনেকে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন।
এদেরই একজন নূর উদ্দিন। তিনি জানান, তার আকামার মেয়াদ আরও ১০ মাস আছে। এরপরও কর্মস্থল থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ৯ দিন জেল খাটার পর এক কাপড়ে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চার বছর আগে গৃহকর্মীর কাজে কাতার গিয়েছিলেন শিল্পী বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, মালিক ঠিকমতো বেতন দিতেন না। কাজ না থাকায় এবং আকামার মেয়াদ বাড়াতে না পেরে মালিক নিজেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে কাতার গিয়েছিলেন নাটোরের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, শুরুতে কাজ পেলেও পরে সংকট দেখা দেয়। মালিক নিয়মিত বেতন দিতেন না। এখন পাওনা টাকা না পেয়েই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে।
ফেরত আসা প্রবাসীরা জানান, কাতারের কারাগারগুলোতে এখনো অনেক বাংলাদেশি আটকে আছেন, যাদের মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৪ হাজার ৩৫৪ জনের বেশি বিদেশফেরত অভিবাসীকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৯৩ জন।
