
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দিন পার করছেন রাসু বসাক। উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাবে চরম সংকটে পড়েছে তার পরিবার।
৩৭ বছর বয়সী রাসু বসাক উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার উত্তর পদুয়া এলাকার সুখবিলাস সিকদার পাড়ার বিন্দু বসাকের ছেলে। তিনি সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র।
রাসুর মামাতো ভাই ও পেশায় শিক্ষক জুয়েল কান্তি দে জানান, অনেক আগে খাওয়ার সময় দাঁতের মাড়িতে একটি পাথর ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি সারেনি। প্রায় দুই বছর আগে ঢাকায় রাসুর একটি ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার করা হয়।
জুয়েল কান্তি দে আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যান্সারের কোনো লক্ষণ ধরা না পড়লেও পরে অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে অস্বাভাবিকভাবে মাংস বেড়ে যায়। পুনরায় পরীক্ষা করা হলে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিজের অসুস্থতা সম্পর্কে রাসু বসাক জানান, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে নাস্তা করার সময় দাঁতের মাড়ির ভেতরে পাথর ঢুকে যায়। শুরুতে তিনি স্থানীয় ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়েছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে সে সময় বড় কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
রাসু বসাক বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ক্ষতস্থানে বড় জটিলতা দেখা দেয় এবং মাংস ফুলে বাড়তে থাকে। তখন আত্মীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা শুরু হয়। অস্ত্রোপচার করে কিছু অংশ ফেলে দেওয়া হলেও পরে কানের নিচে সমস্যা দেখা দেয় এবং ক্যান্সার ধরা পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিন্দু বসাকের চার ছেলের মধ্যে একজন আগেই মারা গেছেন। বাকি ভাইদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। রাসু বসাক অল্প বয়সেই পড়াশোনা শেষে পারিবারিক অভাবের কারণে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি শুরু করেছিলেন।
দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও সরকারের কাছে মানবিক সহায়তা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বাঁচার আকুতি জানিয়ে রাসু বসাক বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আমি বাঁচতে চাই। আমার চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসুন।”
রাসু বসাককে সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর: ০১৮৫৯-২০৭৪৮১ (জুয়েল কান্তি দে)। এছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে ০১৮২৭-৪৯৮৫৩৭ (রাসু বসাক) নম্বরে।
