
জীবনের নির্মম বাস্তবতা কখনো কখনো এমন বেদনাদায়ক অধ্যায় রচনা করে, যা ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একই দিনে দুই সহোদরের মৃত্যুর এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ খোকন (৭৮)। আর সেই শোক সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারু (৬৮)।
বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চাপাছড়ি গ্রাম। নিহত দুই সহোদর ওই এলাকার প্রয়াত ছাবের আহমদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ খোকন বুধবার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় লাইন পার হওয়ার সময় একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বড় ভাইয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ যখন পরিবারে পৌঁছায়, তখন পুরো বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। সেই মর্মান্তিক খবর শুনে মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েন ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারু। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা এই মানুষটি প্রিয় বড় ভাইকে হারানোর শোক কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের রহমাননগর নাসিরাবাদ এলাকার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এই বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রবি জানান, বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর পেয়ারু অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
একই দিনে দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যু যেন একটি পরিবারের বুক থেকে দুটি প্রধান স্তম্ভ উপড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। তাদের এই চিরবিদায়ে শুধু পরিবার নয়, গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং এলাকাবাসী।
