ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা


স্বপ্নের এক সড়কের ঘোষণা এলো আজ। রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত নির্মিত হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। মাটির উপর দিয়ে নয়, মাথা উঁচু করে শূন্যে ভেসে ছুটবে যানবাহন। দেশের দুই প্রধান শহরের মধ্যে তৈরি হবে এক নতুন গতির করিডোর।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে তিনি যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে একের পর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

শুধু এক্সপ্রেসওয়ে নয়। ভবিষ্যতের যোগাযোগ অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে সরকার পরিকল্পনা করেছে দ্বিতীয় মুন্সীগঞ্জ সেতু ও তৃতীয় ভৈরব সেতু নির্মাণেরও। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের একটি জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার স্বপ্নও এবার বাজেটে স্থান পেয়েছে। সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, সড়ক ব্যবস্থাপনায় এবার আসছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ইলেকট্রনিক টোল আদায় ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষায় আসছে অটোমেটেড সার্টিফিকেট ব্যবস্থা এবং পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বর্তমানে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

বরাদ্দ বাড়ল প্রায় সাড়ে বারো হাজার কোটি টাকা

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় সাড়ে বারো হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবে রূপ নিলে দেশের দুই প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগ যেমন সহজ হবে, তেমনি পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যেও আসবে নতুন গতি। পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে— এই প্রত্যাশাই এখন সামনে।