
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর লোহার গ্রিল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে একের পর এক মূল্যবান লোহার গ্রিল কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরচক্র।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থানের এমন নিরাপত্তাহীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকার কারণে স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে শহীদ মিনারের সীমানাপ্রাচীরের লোহার গ্রিলগুলো কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের ধারণা, কতিপয় মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরই মধ্যে সীমানাপ্রাচীরের একটি বড় অংশের গ্রিল চুরি হয়ে যাওয়ায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণটি বর্তমানে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণটি মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বখাটেদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেও সেখানে নানা রকম অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। রাতের বেলায় এটি অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় রাতে শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে ঘরে ফেরা স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, শহীদ মিনারের মতো একটি সংবেদনশীল ও শ্রদ্ধার জায়গায় এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চকরিয়াবাসীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, চকরিয়া পৌরসভা এবং সেনা ক্যাম্পের পাশেই এমন চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
টিআইবির সহযোগী সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম সাহাবুদ্দিন জানান, শহীদ মিনার বাঙালি জাতির অহংকার ও চেতনার জায়গা। এর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অথচ চকরিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি আজ অবহেলিত। সেই সুযোগে চোরের দল গ্রিল কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা চকরিয়াবাসীর জন্য চরম লজ্জার।
চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ জানান, গ্রিল চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। পাশাপাশি সুরক্ষা নিশ্চিতে থানা-পুলিশের নজরদারি বাড়ানো উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশ খুব একটা টহল দেয় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চোরদের আইনের আওতায় আনবে।
এ বিষয়ে চকরিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ডা. মোহাম্মদ লোকমান জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের গ্রিল চুরির ঘটনাটি তারা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছেন। পৌরসভার প্রশাসককে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করে নতুনভাবে গ্রিল স্থাপন করে শহীদ মিনারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
