সাতকানিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, সেই সিদ্ধান্তের আগে কী ধরনের যাচাই-বাছাই বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে- তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশের পর যা ঘটেছে

দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, নিজের হারানো দায়িত্ব ও ক্ষমতা ফিরে পেতে গত ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন জসিম উদ্দিন। পরে আবেদনটির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৬২৭১/২০২৬) দায়ের করেন।

গত ১৭ মে রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জসিম উদ্দিনের আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। গত ১১ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে জসিম উদ্দিনকে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতিসহ দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদেশপত্রে আবেদন নিষ্পত্তির আগে কোনো শুনানি, তদন্ত বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের তথ্য উল্লেখ নেই।

কেন উঠছে প্রশ্ন

হাইকোর্টের রিটটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৪ জুন নির্ধারিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর আগেই চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে পুনরায় আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও ছাত্র-জনতা। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন।

আইন বিশেষজ্ঞের মত

হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিদওয়ানুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্ট কোনো আবেদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণত প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

তার ভাষ্য, “আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো শুনানি, নোটিশ বা যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে যদি কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি উচ্চ আদালতের আদেশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছেন।

তবে আবেদন নিষ্পত্তির আগে কোনো শুনানি বা যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না— এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন এবং চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।