
চট্টগ্রাম ওয়াসায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দুটি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নাম ও লোগো ব্যবহার না করার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হলেও একটি পক্ষ তা অমান্য করে সাংগঠনিকভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দল।
শনিবার (১৩ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ের সামনে অন্তত দুটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির নোটিশ জারির এক মাসেরও বেশি সময় পর এসব ব্যানার অপসারণ না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে ৫ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন (রেজি. নং-১৬৮৭) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো ব্যবহার করছে। তারা নিজেদের সংগঠনকে শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রচার করছে, অথচ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক অতীতেও ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনটির কার্যক্রমে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো ব্যবহার বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে এসব ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের নেতাদের অভিযোগ, ২০০৫ সালের পর থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকা চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের ব্যানারে আবারও সংঘবদ্ধ হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত একটি পক্ষ। সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার ক্যাশিয়ার নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই গ্রুপটি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার অপচেষ্টা করছে বলে তারা দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কামাল খান জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত এবং কেন্দ্রীয় কমিটির একমাত্র অনুমোদনপ্রাপ্ত সংগঠন। কেন্দ্রীয় কমিটির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি পক্ষ এখনও শ্রমিক দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, শ্রমজীবী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে যেন শ্রমিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা না করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিয়া জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই সংগঠনের ব্যানারে সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্রীয় শ্রমিক দল তাদের সংগঠনকেই চট্টগ্রাম ওয়াসাকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের একমাত্র বৈধ সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অন্য একটি পক্ষ এই নাম ও লোগো ব্যবহার করে কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, তারা ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন। শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল বিধায় তারা নাম ও লোগো ব্যবহার করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নোটিশ পাওয়ার পর বর্তমানে তারা আর দলের কোনো নাম বা লোগো ব্যবহার করছেন না।
শ্রমিক দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে এই বিরোধ আগামী দিনে চট্টগ্রাম ওয়াসার শ্রমিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
