তিন কোটির জমি দিলেন, চাইলেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজারে তাঁকে সবাই চেনেন আইয়ুব বাঙ্গালী নামে। দীর্ঘ বছর ব্যবসা করেছেন, সংসার করেছেন, জমি কিনেছেন। কিন্তু মনের গভীরে একটি স্বপ্ন লালন করেছেন বহুদিন- নিজের জমিতে একদিন গড়ে উঠবে মসজিদ, শেখানো হবে দ্বীনের আলো।

সেই স্বপ্ন এবার বাস্তব হলো।

রবিবার (১৪ জুন) চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আইয়ুব আলী চৌধুরী মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য দলিল-দস্তাবেজ হস্তান্তর করলেন। বর্তমান বাজারমূল্যে যে জমির দাম কমপক্ষে তিন কোটি টাকা।

যে জমি, যে স্বপ্ন

ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে খাজা গাউসিয়া মার্কেট সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ৭ দশমিক ২০ শতক জমি। ব্যস্ত সড়কের কোলঘেঁষা এই জমিতে গড়ে উঠবে ‘বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ’ এবং ‘গাউসিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা’।

বিকেলের আলোয় সেই জমিতেই বসল অনুষ্ঠান। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের ফটিকছড়ি উপজেলা সদর শাখার নেতৃবৃন্দের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল তুলে দিলেন আইয়ুব আলী চৌধুরী।

দানের মঞ্চে যিনি প্রধান অতিথি

অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। কিন্তু এই প্রধান অতিথিই ছিলেন মূল দাতা- যাঁর দানের জমিতে বসেছে অনুষ্ঠান, যাঁর উদারতার গল্পই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

সভাপতিত্ব করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা সদর শাখার সভাপতি মাওলানা আবু তাহের আল কাদেরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ মুন্সি, সাবেক কাউন্সিলর ও মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং মুহাম্মদ শফিউল আলম ননাই।

বক্তারা বললেন, সড়কের পাশে এই মহামূল্যবান সম্পত্তি দানের মাধ্যমে আইয়ুব আলী চৌধুরী এক অনন্য দৃষ্টান্ত রাখলেন। মসজিদ নির্মিত হলে স্থানীয়দের পাশাপাশি এই সড়কে চলাচলকারী হাজারো মুসাফির নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। মাদ্রাসায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ফটিকছড়িজুড়ে প্রশংসার ঢেউ

খবরটি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। পুরো উপজেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল। কেউ বললেন, এ হলো দ্বীনের পথে অনন্য এক ছদকা। কেউ বললেন, পরকালের জন্য এর চেয়ে বড় পাথেয় আর কী হতে পারে। কেউ বা তাঁর এই আনুগত্যকে ইসলামের নজিরবিহীন উদাহরণ বলে আখ্যা দিলেন।

বিবিরহাট বাজারের পরিচিত মুখ আইয়ুব বাঙ্গালী আজ গোটা ফটিকছড়ির অনুপ্রেরণার নাম।

অনুষ্ঠানের শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে জমিদাতাসহ পুরো মুসলিম জাহানের কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনা করা হয়।