ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী


ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার ১২০ দিনের মধ্যেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।”

তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের লোকজনকে বিবেচনায় এনে দেওয়া হচ্ছে না। নির্ধারিত বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের নির্বাচন করা হচ্ছে।”

বাজেট প্রসঙ্গে হেলাল উদ্দীন বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট অতীতের অনেক বাজেটের তুলনায় বেশি গণমুখী। বাজেট ঘোষণার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “প্রতিবার বাজেটের পর বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার মূলত সিগারেট ও মদের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ার বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল আলম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২৪ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

এ সময় দেশের আরও ১৯টি উপজেলার সঙ্গে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করা হয়।