
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সিডিএতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে সিডিএকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করতে তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বেলায়েত হোসেন বলেন, অত্যাধুনিক মার্কেট করা হলেও তা চালু করা হয়নি। বড় বড় মার্কেট থেকে কোনো ভাড়া আসছে না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করলেও অনেকে টোল দেন না, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতিও হয়েছে। এই দুর্নীতি প্রতিরোধে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু করে হিজড়া খাল, কাপাসগোলা ও চাক্তাইসহ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতাধীন খালগুলো ঘুরে দেখেন। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক ও শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ৫টি খালের কাজও ৬৮ শতাংশ শেষ। আগামী ডিসেম্বরের আগেই শুষ্ক মৌসুমে এসব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, অনেক বহুতল ভবন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও স্থাপনা ভেঙে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। অতীতে চাক্তাই খাল অভিশাপ থাকলেও অত্যাধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণের কারণে এখন এটি আশীর্বাদে রূপ নেবে। আসন্ন বর্ষায় নগরবাসী আর জলাবদ্ধতার শিকার হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অসচেতনভাবে খালে বর্জ্য ফেললে কোনো সুফল আসবে না। দিন শেষে নাগরিকদেরই এর দুর্ভোগ পোহাতে হবে। চসিক মেয়রও তাঁর অধীন খালগুলো খনন ও সংস্কার শুরু করেছেন। শহরের সব কটি খাল এই প্রকল্পের আওতায় এলে শতভাগ সুফল মিলবে।
শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, অনেকে টোল না দিয়ে এটি ব্যবহার করেন। তিনি নিজে টোল দিয়ে এটি ব্যবহার করেছেন। সবাইকে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা মানেই সবকিছু বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক নিয়ে তিনি বলেন, এই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ আশপাশের মানুষ যানজট এড়িয়ে সহজে নগরে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজটও কমে আসবে।
সিডিএকে গতিশীল সংস্থায় রূপান্তর এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের শহর গড়াই তাঁর মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, যারা সিডিএতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। যারা সংস্থাকে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলে নিজেরা লাভবান হয়েছেন, তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
