
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী রূপকার। সংকটময় মুহূর্তে তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা ও নেতৃত্ব দেশের মানুষকে একতাবদ্ধ করেছিল। তাঁর সততা, দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদী দর্শন আজও প্রেরণা জোগায়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি নির্মমভাবে খুনের শিকার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
বেলায়েত হোসেন বলেন, রাঙ্গুনিয়ার এই পবিত্র মাটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এক ঐতিহাসিক স্থান। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা শত বৈষম্য, বঞ্চনা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁরা বাড়িঘর থেকে নিগৃহীত ছিলেন এবং আত্মীয় ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। লাখ লাখ নেতাকর্মী বহু মামলায় বারবার কারাগারে গিয়েছেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শই স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারকে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।
তিনি উল্লেখ করেন, আজ বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করায় তিনি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নগরকে নান্দনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। যারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নগর ও সিডিএর স্বার্থে তিনি আপসহীন থাকবেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কাজ পাবেন, কিন্তু কাজের মানের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবার আগে সরকারি স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। কোনো অবৈধ দখলদারকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদেক, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরওয়ার উদ্দীন সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার, জসিম চৌধুরী, শাওন উদ্দিন রকি এবং উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক এম মাসুদ আলম।
এ ছাড়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশরাফুল হক হারুন, সদস্যসচিব আলী নুর তালুকদার মনি, রাউজান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান সাহিল, রাউজান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব একরামুল মিয়া এবং উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
