
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু মো. জায়হানের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তিনি পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল পূর্বপাড়া এলাকায় নিহত শিশুর বাড়িতে যান এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ সময় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম দীর্ঘক্ষণ নিহত শিশু মো. জায়হানের বাবা মো. শাহজাহান, মা, নানা শরীফ আলী এবং মামা জিসানসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবারের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী ও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, শিশু মো. জায়হানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। একটি শিশুকে অপহরণ করে হত্যা করা কোনোভাবেই মানবিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার পরপরই তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য তিনি জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত এবং আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের পরিদর্শনের সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সওদাগর, সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ।
এ ছাড়া দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা শফিকুল ইসলাম, জাসাস নেতা নাছির উদ্দীন ও মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনার পর নিহত শিশু মো. জায়হানের পিতা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে সাদিয়া সুলতানা নিহাকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
