
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শনিবার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য মোহাম্মদ উসামা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের দপ্তরে জবাব পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ১৮ জুন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জমা পড়ে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দুই শীর্ষ নেতা অভিযুক্তের পক্ষে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নোটিশ অনুযায়ী, আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব দলীয় প্যাড ব্যবহার করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্তাধীন বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে দলীয় প্যাডে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগকারীকে আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাষ্য, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এর মধ্যে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আমার অগোচরে কে বা কারা দলের অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করে আমার নামে বিবৃতি দিয়েছে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দেব।”
সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনও বলেন, শোকজের বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির এক নারী কর্মী দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজাউদ্দিন এবং মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তাকে নগরের একটি হোটেলের বারে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে অশোভন আচরণ করা হয়।
অভিযোগকারী নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও এনসিপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিযোগকারী নারীকে নিয়ে একটি পোস্টে ‘ভাড়া করা নর্তকী’ মন্তব্য করেন। বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এসেছে বলে শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
