বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুমৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, তদন্তের দাবি


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুল ইসলাম নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিশুটির পরিবার।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, উপজেলার পূর্ব কাহারঘোনা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আহমদের ছেলে আয়াতুল ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

স্বজনদের দাবি, রবিবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে দুপুরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অক্সিজেন ও সিপিআর দেওয়া হয়। এ সময় একটি ইনজেকশন প্রয়োগের পরপরই শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছু সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শিশুটির পিতা সৈয়দ আহমদ বলেন, “আমাদের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার পরই শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাঁশখালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের সদস্যদের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুমিনুল হক।

তিনি বলেন, “রোগীকে ভর্তির পর একাধিক চিকিৎসক পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। সকালে আমিও রোগীকে দেখেছি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, সেটি শিশুদের চিকিৎসায় নিয়মিত ব্যবহৃত একটি ওষুধ। প্রাথমিকভাবে ভুল চিকিৎসার কোনো বিষয় আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নার্সের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আড়ালে ছিলেন। তিনি পলাতক নন।”

আরএমও আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে বাইরে রয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।