পাহাড়ে সবুজায়নে দীঘিনালা জোনের উদ্যোগ, বিতরণ হলো ১৬০০ চারা


পাহাড়ের ঢালে ঢালে যখন বর্ষার সবুজ সতেজতা ছড়িয়ে পড়ার কথা, তখন সেই সবুজকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। “পরিকল্পিত বনায়ন গড়ি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬।

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার তারাবুনিয়া নিউজিল্যান্ড এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিনের উপস্থিতিতে।

শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০০ জন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষের চারা- যা একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে দীঘিনালার পরিবেশ-সচেতনতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। শুধু একদিনের কর্মসূচিতেই সীমিত নয়- সবুজায়নের মাধ্যমে দীঘিনালাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও মডেল উপজেলায় রূপ দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে জোন কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন বলেন, “একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকেও নিরাপদ করে। তাই আমরা আজ বিতরণের পাশাপাশি চারা রোপণও করেছি।”

তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, প্রত্যেকে যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, বাজার চৌধুরী জেসমিন চাকমা, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চারা হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের মুখেও ছিল তৃপ্তির হাসি। তাঁরা সেনাবাহিনীর এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে এবং পাহাড়ি জনপদে সবুজায়ন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবমিলিয়ে, দীঘিনালার এই বিকেলটি যেন হয়ে রইল আগামী দিনের জন্য রোপণ করা এক প্রতিশ্রুতি- যার ফল পাকবে বছরের পর বছর ধরে, এই পাহাড়ি জনপদের প্রতিটি সবুজ পাতায়।