
রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ আইয়ুবকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দোছড়ি গ্রামের একটি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আইয়ুব আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাবের একটি সূত্র জানায়, যুবদল নেতা মাসুদ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পাহাড়ের ভেতরে একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আইয়ুব। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়।
তবে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আইয়ুব হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একজন আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পলাতক অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র্যাবের অভিযানে মাকসুদুল হক হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা দেড়টার দিকে একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থানকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১৫ জুন দিবাগত রাতে নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোহাম্মদ আইয়ুবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রায়হান, মেহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম ও মোহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই হত্যাকাণ্ড ছিল তাৎক্ষণিক হামলা, নাকি পূর্বপরিকল্পিত কোনো অপারেশনের অংশ। গ্রেপ্তার হওয়া আইয়ুবের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
