আনোয়ারায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, আপসের চেষ্টার পর গ্রেপ্তার কলেজছাত্র


চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার (১৭ জুন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া-বারশত উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি মুরগির খামারে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাত রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার বাসিন্দা এবং শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বারশত ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার বিষয়টি বারশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈলকে জানায়। তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক সমঝোতার নামে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈল। তিনি দাবি করেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়াই তার একমাত্র ‘অপরাধ’। সেখানে উপস্থিত সবাই তাকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিতে বলেছিলেন।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা-পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী জানান, এ ধরনের গুরুতর অপরাধে আপসের কোনো সুযোগ নেই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বারশত ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনার দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈলের ভূমিকার বিষয়ে ওসি জুনায়েদ চৌধুরী স্পষ্ট করেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করাও একটি অপরাধ। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দণ্ডবিধি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার মতো আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ সালিশের মাধ্যমে সমঝোতা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপের কারণেই প্রায়ই অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।