
বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ডের (বিটিটিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা ২৭ বছর পুরোনো এক মামলায় তিন সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বিটিটিবির সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, সাদিকুর রহমান খান এবং সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন।
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী রেজাউল করিম রনি বলেন, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৪২০ ধারায় সাত বছর, ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৪৭৭(এ) ধারায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে বিটিটিবির বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, উত্তোলিত অর্থ ক্যাশবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং সরকারি কোষাগারেও জমা দেওয়া হয়নি। তদন্তে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর ডবলমুরিং থানায় মামলা করা হয়। পরে দুদক তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়।
