ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় বিক্রি, দুই বছর পর উদ্ধার


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা থেকে পাচারের শিকার নাবিরুল ইসলাম ফাহিম ওরফে বাপ্পি (২৪) নামের এক যুবককে দুই বছর পর ইন্টারপোলের সহায়তায় লিবিয়া থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে নাবিরুল ইসলাম ফাহিমকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই স্থানীয় সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা নাবিরুল ইসলাম ফাহিম। সে সময় তাঁকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মাঝপথে পাচারকারীরা লিবিয়ায় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্র নাবিরুল ইসলাম ফাহিমের মায়ের কাছে ফোন দিয়ে তাঁকে ফেরত পাঠানোর শর্তে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় নাবিরুল ইসলাম ফাহিমের মা বাদী হয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের ১২ জনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে।

পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান আরও বলেন, সে সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাবিরুল ইসলাম ফাহিমের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। তাঁকে উদ্ধারের জন্য এআইজি (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে ইন্টারপোল, আইওএম এবং লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

এরপর বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মাফিয়া চক্রের জিম্মিদশায় আটকে থাকা নাবিরুল ইসলাম ফাহিমকে উদ্ধার করে বুধবার (২৪ জুন) সকালে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে আনা পেকুয়া উপজেলার যুবক নাবিরুল ইসলাম ফাহিমকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।