
বিসিআইসির আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডের (সিইউএফএল) এক কর্মকর্তার বদলি ও পুনর্বহাল নিয়ে চরম প্রশাসনিক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ওই কর্মকর্তাকে প্রথমে রাঙামাটির চন্দ্রঘোনায়, পরে জামালপুরের তারাকান্দিতে পদায়ন এবং শেষ পর্যন্ত আগের কর্মস্থল সিইউএফএলেই বহাল রাখার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দফায় দফায় দেওয়া এসব আদেশের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা দাপ্তরিক নথি খোদ আদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তার দপ্তরেই নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘অদৃশ্য’ নির্দেশে এই অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাসুদ পারভেজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিইউএফএলের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারকে চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডে (কেপিএমএল) বদলি করা হয়। এর কিছুদিন পর আরেকটি আদেশে তাকে তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তও টেকেনি। গত ২২ জুন জারি করা বিসিআইসির সর্বশেষ অফিস আদেশে তাকে পুনরায় সিইউএফএলেই বহাল রাখা হয়।
মাত্র ১২ দিনের মধ্যে তিনটি ভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএলের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকার একুশে পত্রিকাকে বলেন, “জি, আমাকে বদলি করা হয়েছিল। আবার কী কারণে পুনর্বহাল করা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষই ভালো জানে। এটাই আমার মন্তব্য।”
এদিকে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একই কর্মকর্তার ওপর কেন দফায় দফায় বদলি ও পুনর্বহালের ঘটনা ঘটানো হলো, তা নিয়ে বিসিআইসি ও সিইউএফএলের ভেতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এটি নিয়মতান্ত্রিক বদলি নাকি এর পেছনে কোনো বড় ধরনের তদবির বা অদৃশ্য চাপ কাজ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই রহস্যজনক আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাসুদ পারভেজ একুশে পত্রিকার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রথমে বদলি এবং ১০ দিন পর একই প্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশনা আমার কাছে লিখিত আকারে আছে।”
তবে কেন এই কর্মকর্তাকে হুট করে বদলি এবং আবার পুনর্বহাল করা হলো, তার কোনো যৌক্তিক কারণ বা নথি প্রশাসনের এই কর্মকর্তার কাছে নেই। এ বিষয়ে মাসুদ পারভেজ আরও বলেন, “কামরুল ইসলামকে কেন বদলি এবং আবার পুনর্বহাল করা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো নথি আমার কাছে নেই। আমার ওপরে আরও ছয়জন কর্মকর্তা আছেন, তারাই এ বিষয়ে ভালো জানবেন।”
চট্টগ্রামের সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিসিআইসির মতো একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বড় সংস্থায় সুনির্দিষ্ট কারণ বা দাপ্তরিক নথি ছাড়া শুধুমাত্র ওপরের নির্দেশে এভাবে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ড এবং সুশাসনের পরিপন্থী। এর পেছনে কোনো প্রভাবশালীর সিন্ডিকেট বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
