
দেশের অন্যতম মাছ চাষের উর্বরভূমিখ্যাত কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার (নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার) উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়িজোন এবং রামপুরস্থ সরকারি চিংড়ি এস্টেট পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু রামপুর এলাকার বিভিন্ন চিংড়ি ঘের পরিদর্শন শেষে মৎস্য অধিদপ্তরের ৪৮ একরের প্রদর্শনী চিংড়ি খামার কার্যালয়ে স্থানীয় চিংড়িচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, চিংড়ি চাষ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য খাত। এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির অবস্থান শক্তিশালী হলেও এটিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার, চাষি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি চকরিয়া চিংড়িজোনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণে সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু আরও বলেন, এই অঞ্চলের চিংড়ি চাষ এবং চাষির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
চিংড়িজোন পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তা মো. গাজিউর রহমান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আনোয়ারুল আমিন, চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নুর আলম মাছুম সিদ্দিকী, রামপুর ৪৮ একর চিংড়ি প্রদর্শনী খামারের প্রজেক্ট ম্যানেজার কাউছার আহমদ, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ এবং বদরখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আহসানুল কাদের চৌধুরী শাব্বির। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় চিংড়ি ব্যবসায়ী ও খামারসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ও লবণ চাষের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।
একসময়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর রামপুর এলাকা ‘চকরিয়ার সুন্দরবন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠার গল্প শোনানো হয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে চকরিয়ার সুন্দরবন আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে ধারণা দেন নেতৃবৃন্দ।
এ প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদনের মাধ্যমে রামপুরের হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত সবাই। স্থানীয় চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।
সভায় চিংড়িচাষি, ঘেরমালিক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে চিংড়ি ও লবণ শিল্পের উন্নয়ন এবং এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
