রাউজানে ৩ বছর ধরে থমকে আছে সেতুর কাজ, ভোগান্তিতে চার ইউনিয়নের মানুষ


চট্টগ্রামের রাউজানে কর্ণফুলী নদীর শাখা খালের ওপর নির্মিত ফারিকুল সেতুর নির্মাণকাজ ধীরগতির কারণে চরম জনদুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। ২০২১ সালের দিকে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও গত কয়েক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। ফলে এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ১০ গ্রামের এক লাখের বেশি মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বিষাদে রূপ নিয়েছে। কবে শেষ হবে ফারিকুল ব্রিজের কাজ, এ নিয়ে জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, সেতুর মাঝ অংশে কিছু জটিলতার কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত নতুন ডিজাইনের অনুমোদন হাতে এলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। শিগগিরই সেতুর কাজ শেষ করে মানুষের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান প্রকৌশলী আবুল কালাম।

জানা যায়, রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী, পূর্বগুজরা, বাগোয়ান ও কদলপুর ইউনিয়নের লাখো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর শাখা খালের ওপর নির্মিত এই ফারিকুল সেতু। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিগত সরকারের আমলে এটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বানের পর ২০২২ সালের শেষের দিকে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে ‘দিদার আলী অ্যান্ড মাজেদা জেবি এন্টারপ্রাইজ’ এর নির্মাণকাজ শুরু করে।

বর্তমানে সেতুর দুই পাড়ের কাঠামো দৃশ্যমান হলেও মাঝখানের অংশ ফাঁকা পড়ে আছে। মাটির নিচে শক্ত স্তর না থাকায় সেতুটির মাঝখানের স্ল্যাবের কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্মাণকাজ ঝুলে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর কাজ শুরু হলে মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু গত তিন বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ বন্ধ থাকার ফলে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বিষাদে রূপ নিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চার ইউনিয়নের লাখেরও বেশি মানুষ।

রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আরও জানান, মাঝখানের অংশের মাটি অত্যন্ত নরম হওয়ায় সেতুটির মূল ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাটির নিচে ১৫-২০ ফুট পাইপ গেঁড়ে খুঁটির ওপর শাটারিং করে সাপোর্ট দিতে হবে। করণীয় নির্ধারণে প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) ইতিমধ্যে স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই কাজের মেয়াদ বাড়ানো হবে এবং আগের ঠিকাদারই কাজটি শেষ করবেন।

১৮০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এই ফারিকুল সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে এলাকার ৮-১০টি গ্রামের যোগাযোগ ও ব্যবসাবাণিজ্যসহ শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।